বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, প্রেক্ষাগৃহগুলোর আধুনিকায়ন এবং দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
সরকারের পরিকল্পনা ও আর্থিক বরাদ্দের পর্যালোচনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। সভায় সিনেমা হল বাঁচানোর জন্য পূর্বে ঘোষিত ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পুনঃপরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া এই আর্থিক সহায়তা যেন সিনেপ্লেক্সের পাশাপাশি প্রচলিত সিঙ্গেল স্ক্রিন হলগুলোর ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
প্রেক্ষাগৃহের অভিজ্ঞতা ও ভালো চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয়তা
মোবাইল ফোন বা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র দেখার অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের হলগুলোও সফলভাবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে দর্শক ফেরাতে মানসম্মত ও ভালো চলচ্চিত্রের বিকল্প নেই। কোনো কোনো হলে দর্শক সংকট কাটাতে প্রযোজক, পরিচালক ও হল মালিকদের যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি ও ই-টিকেটিং ব্যবস্থা
বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির বিষয়ে তিনি জানান, দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রাজস্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দেশীয় চলচ্চিত্র বিদেশে রপ্তানি করে রাজস্ব আয়ের নতুন সুযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ই-টিকেটিং (E-ticketing) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে বিএফডিসিকে (BFDC) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষ শিল্পী তৈরি ও সমিতিকে লিখিত প্রস্তাবের আহ্বান
চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ও দক্ষ কলাকুশলী তৈরিতে প্রশিক্ষণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিএফডিসি-র মাধ্যমে পুনরায় ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যা নতুন প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করবে। মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ সিনেমা হলের নানা সংকট ও উত্তরণের প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সকল দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।























