বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির তৈরি করে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। এমন এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভিডিও বার্তায় বিদ্রোহী শিবিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেইমানি করারও একটা সীমা থাকা উচিত এবং বিদ্রোহীরা দুই মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, এই অংশটি এখন মূলত বিজেপি করছে। বিজেপি করার পাশাপাশি তৃণমূলের নাম ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বিদ্রোহীদের সাহস থাকলে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না এবং তাকে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে না। তাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দলীয় প্রতীক নিয়ে সম্ভাব্য টানাপড়েন প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপির হয়ে দল ভাঙার চক্রান্ত চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা কি ভাবছে তিনি মরে গেছেন বা তৃণমূল কর্মীরা শেষ হয়ে গেছে? তিনি জানান, প্রতীক কেড়ে নিলেও কিছু যায় আসে না, কারণ প্রতীক সেটাই যা মানুষ এবং তৃণমূল কর্মীরা গ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে দল ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তিনি জানেন বিদ্রোহী শিবির প্রতীক পাবে না। তবে যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (যাকে তিনি ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন) দল শেষ করার জন্য তাদের প্রতীক দিয়েও দেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। প্রয়োজনে তিনি গলায় প্রতীক ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের এই সংঘাত এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের সরাসরি বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে আক্রমণ করছেন। ফলে আগামী দিনে দলীয় প্রতীক, সংগঠন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরও যে ক্ষমতার লড়াই এখনও শেষ হয়নি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের বার্তায় সেই ছবিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।






















