বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অ্যাকশন

সংকটগ্রস্ত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের, প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 5

সংকটগ্রস্ত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের, প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় চরম সংকটে থাকা দেশের ৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দ্রুতই এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা মোট ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ৫টি সরাসরি বন্ধের সিদ্ধান্ত হলেও, বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও ৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বন্ধের তালিকায় যে ৫ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়াধীন রাখা হয়েছে, সেগুলোর খেলাপি ঋণের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

এফএএস (FAS) ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৯.৯৯%)

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (খেলাপি ঋণ: ৯৯.৪৪%)

ফারইস্ট ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৮.৫০%)

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (খেলাপি ঋণ: প্রায় ৯৫%)

আভিভা ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৩.৯৩%)

পটভূমি ও অনিয়ম: খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার একাই এই তালিকার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে

বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া এই ৫টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রথম কাজ হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান বোর্ড বিলুপ্ত করা। এরপর একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মতো এখানেও প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।
‘লাস্ট চান্স’ পেল যে ৪ প্রতিষ্ঠান

অবসায়নের তালিকা থেকে আপাতত বেঁচে যাওয়া বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ মাসের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
২. প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স
৩. জিএসপি ফাইন্যান্স
৪. প্রাইম ফাইন্যান্স

শর্ত: এই ৩ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা নির্ধারিত সময়ে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরও একই নিয়মে বন্ধ বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
সিদ্ধান্তের পেছনের কথা

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআই-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার মধ্যে সন্তোষজনক কর্মপরিকল্পনা দেখাতে না পারা ৯টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তালিকাটি সংশোধন করে ৬টিতে নামানো হলেও, সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

13 June 2026

সংকটগ্রস্ত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের, প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ

জনপ্রিয়

২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের

বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অ্যাকশন

সংকটগ্রস্ত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের, প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় চরম সংকটে থাকা দেশের ৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দ্রুতই এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা মোট ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ৫টি সরাসরি বন্ধের সিদ্ধান্ত হলেও, বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও ৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বন্ধের তালিকায় যে ৫ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়াধীন রাখা হয়েছে, সেগুলোর খেলাপি ঋণের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

এফএএস (FAS) ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৯.৯৯%)

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (খেলাপি ঋণ: ৯৯.৪৪%)

ফারইস্ট ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৮.৫০%)

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (খেলাপি ঋণ: প্রায় ৯৫%)

আভিভা ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ: ৯৩.৯৩%)

পটভূমি ও অনিয়ম: খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার একাই এই তালিকার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে

বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া এই ৫টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রথম কাজ হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান বোর্ড বিলুপ্ত করা। এরপর একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মতো এখানেও প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।
‘লাস্ট চান্স’ পেল যে ৪ প্রতিষ্ঠান

অবসায়নের তালিকা থেকে আপাতত বেঁচে যাওয়া বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ মাসের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
২. প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স
৩. জিএসপি ফাইন্যান্স
৪. প্রাইম ফাইন্যান্স

শর্ত: এই ৩ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা নির্ধারিত সময়ে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরও একই নিয়মে বন্ধ বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
সিদ্ধান্তের পেছনের কথা

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআই-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার মধ্যে সন্তোষজনক কর্মপরিকল্পনা দেখাতে না পারা ৯টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তালিকাটি সংশোধন করে ৬টিতে নামানো হলেও, সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

13 June 2026

সংকটগ্রস্ত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের, প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ