আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বড় অংশই বরাবরের মতো এনবিআরের ওপর চাপানো হচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে প্রধান অংশ ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বাজেটে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ৬,০৪,০০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায় ২৫,০০০ কোটি এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ৬৬,০০০ কোটি টাকা।
এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ঘাটতি। সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আদায় যেন দিবাস্বপ্ন!
বিশাল লক্ষ্যমাত্রার চাপ মাথায় নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করদাতাদের করসেবা সহজ করার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি রোধে আগামী অর্থবছরে ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে। তাদের মূল কৌশলগুলো হলো: ই-রিটার্ন ও অনলাইন পেমেন্ট: করদাতাদের সশরীরে অফিসে আসার ঝামেলা কমাতে ই-রিটার্ন দাখিল এবং অনলাইন কর পরিশোধ ব্যবস্থা আরো বাধ্যতামূলক ও জনপ্রিয় করা হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, করের হার বাড়িয়ে বা বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিয়ে এই ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব না। তাই প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের পলিসি সংস্কার করা জরুরি।


















