জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনকারী ২০ জন কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন কাটার দণ্ড সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির আদেশে মওকুফ করা হয়েছে। একইভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন অপসারিত বা বরখাস্ত কর্মকর্তাকে বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১১ বছর পর ডিএমপির সাবেক এক উপ-পুলিশ কমিশনারের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এভাবে অনিয়ম বা আন্দোলনের অভিযোগে পাওয়া সাজা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় আমলাতন্ত্রের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনে এই ধরনের সাজা মওকুফ ও পুনর্বহালের ঘটনা নতুন নয়। ২০০৭ সালে বরখাস্ত হওয়া ৮৫ জন নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিগত আমলে বঞ্চনার শিকার ১ হাজার ৫২২ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই। তবে এর মুদ্রার অপর পিঠও সমান উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিএনপির আমলে ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একইভাবে নতুন ছাঁটাই ও ওএসডি করার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সাবেক সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবসহ পুলিশ ও জনপ্রশাসনের বহু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কারণ না দেখিয়ে বিদায় দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান এবং জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, নিয়মমাফিক বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক আনুকূল্যে সাজা মওকুফ কিংবা পুনর্বহাল করা স্পষ্ট অনিয়ম। প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তা রাজনৈতিক বিবেচনায় বাতিল করা হলে আমলাতন্ত্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। সরকার বদলে সাজা মাফের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব নষ্ট করছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথকে রুদ্ধ করছে।




















