জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেই প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে শহীদ হতে প্রস্তুত হওয়া—কথাটার গভীরতা অনেক এবং একই সাথে বিস্ময়কর। জামায়াতে ইসলামী চাইলে বিএনপির একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্যকেও জনগণের কল্যাণে আত্মত্যাগী করে তুলতে পারে, যা দলটির একটি বড় আধ্যাত্মিক সফলতা। জাতির কল্যাণে কীভাবে একজন মানুষকে গড়ে তুলতে হয়, তা জামায়াত থেকে শেখার রয়েছে। মূলত একটি সহযোগী সদস্য ফরমই কেবল একজন রাজনীতিবিদের চিন্তা ও দর্শনে বিশাল পরিবর্তন এনে দিতে পারে, যার অন্যতম উদাহরণ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের নিয়মিত হয়রানির বিরুদ্ধে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন মেজর আখতারুজ্জামান। বিমানবন্দরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—”আমি কি চোর? আমার মাথায় হেলমেট থাকবে কেন?” সাধারণ মানুষ, যারা প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে হয়রানি, লাঞ্ছনা ও মালামাল হারানোর শিকার হয়, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পায় না—মেজর আখতারুজ্জামান মূলত কোটি কোটি প্রবাসীর সেই জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে তাকে গ্রেফতার করে সরকার পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার এবং বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা এখন একজোট হয়েছে। গত জুলাই আন্দোলনের মতোই প্রবাসীরা এবারও মজলুমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আগামী এক মাসের জন্য দেশে রেমিট্যান্স না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দরের হয়রানি বন্ধ এবং মেজরের মুক্তির দাবিতে এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও পূর্ণ সমর্থনের যোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের সমস্যা সমাধান না হলে এই অর্থনৈতিক প্রতিবাদ আরও দীর্ঘায়িত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রবাসীরা।






















