চার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা ও খাতসংশ্লিষ্ট শঙ্কা: দেশের বিমানবন্দরগুলোর বিভিন্ন চার্জ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে ইতোমধ্যে চড়া থাকা বিমান ভাড়া আরও এক দফা বেড়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে।
বেবিচকের যুক্তি ও বর্তমান অবস্থা: ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নবনির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ঋণ পরিশোধের (বছরে প্রায় ১,২৫০ কোটি টাকা) বিশাল ব্যয় মেটানোর জন্যই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, অ্যারোনটিক্যাল চার্জ সর্বশেষ ২০১৩ সালে সংশোধিত হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়নি।
যেসব খাতে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে: প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ফ্লাইটের অবতরণ চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের বাইরে ফ্লাইট পরিচালনার ফি, আকাশপথ ব্যবহারের চার্জ এবং ওভারফ্লাইট চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ছাড়া অন্যান্য টার্মিনালের ক্ষেত্রে বিদেশগামী যাত্রীদের ফি ৫০০ টাকা বা প্রায় চার ডলার থেকে বাড়িয়ে ছয় ডলার এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ফি ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনালের জন্য যাত্রীপ্রতি ১২ দশমিক ৫০ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী, হেলিকপ্টার ও টিকিট সিন্ডিকেটের প্রভাব: চার্জ বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা সরাসরি টিকিটের দাম ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার পরিচালনাকারীদের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে টিকিট সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম চড়া দামের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছেছে, যার ফলে ট্রাভেল এজেন্ট ও খাতসংশ্লিষ্টরা এয়ারলাইনস ও সাধারণ মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।





















