বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মিছিলটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। এরপর সেটি নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো পতিত ফ্যাসিবাদকে ফিরতে দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, পাচার করা টাকা ব্যবহার করে পতিত শক্তি আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি যোগ করেন, দেশের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ, তাই এই দেশকে আর কখনো দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না।
সমাবেশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওই সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তবে দেশের জনগণ আর কখনো সেই গুম ও ক্রসফায়ারের রাজত্ব ফিরে আসতে দেবে না। তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের গত চার মাসে দেশে কোনো গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় কাউকে বন্দি করা হয়নি। দেশ এখন অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, একটি মহল আবারও এসব অর্জন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকায় তাদের সেই অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, শুধু আজ নয়, প্রতিদিনই সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থক বিভিন্ন মহল নানাভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে, যাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে দেশবিরোধী এবং সার্বভৌমত্ববিরোধী প্রবণতা স্পষ্ট। সবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন দেশের জনগণ কখনো অন্যের গোলামত্ব মেনে নেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ সবসময় সর্বোচ্চ সচেতন থাকবে।






















