জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সমুদ্র উষ্ণায়ন, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ক্রমশ বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। জেনেভা থেকে এএফপি-র বরাত দিয়ে সংস্থাটির “দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জলবায়ুর অবস্থা ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল জলরাশি ক্রমাগত উষ্ণ ও অম্লীয় হয়ে উঠছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর। একইসঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ড ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর, যেখানে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা ব্যাপক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে। ডব্লিউএমও-র তথ্যমতে, এই সময়ে ভূমি ও সমুদ্র মিলিয়ে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে প্রায় ০.৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
ডব্লিউএমও-প্রধান সেলেস্তে সাউলো এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ ও ভূখণ্ডের জীবিকা, অর্থনীতি ও টিকে থাকার সক্ষমতা মূলত সমুদ্রকেন্দ্রিক। অথচ ২০২৫ সালে এই অঞ্চল একযোগে উষ্ণ সমুদ্র, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ, সমুদ্রের অম্লীকরণ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রান্তীয় হিমবাহের ক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিবেদনে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের পার্বত্য বরফ গলে যাওয়ার চিত্রটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে ১৯৮৮ সালের তুলনায় বর্তমানে অবশিষ্ট বরফের পরিমাণ মাত্র প্রায় দুই শতাংশে নেমে এসেছে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে যে, এই অঞ্চলের শেষ অবশিষ্ট ক্রান্তীয় হিমবাহটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, ডব্লিউএমও আরও জানায় যে ২০২৫ সালে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, এল নিনো ছাড়া অন্য কোনো বছরের তুলনায় এটিই ছিল রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি। এটি ২০২৬ সালের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে, কারণ সামনে একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বার্ষিক গড়ে ৩.৭ মিলিমিটার হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, বায়ুমণ্ডল থেকে ক্রমবর্ধমান পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ফলে সমুদ্রের পানি ক্রমশ অম্লীয় হয়ে উঠছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থার আঞ্চলিক প্রতিবেদনগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা।






















