ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে যুবনেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজিপি) ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্ট অধিবেশনের প্রথম দিনে যন্তর মন্তর থেকে পার্লামেন্ট অভিমুখে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রা শুরু হলে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) তা দমনে ব্যাপক টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন। পুলিশ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে প্রায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ভাঙচুরের দায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন যে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা সিজিপি প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়— অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবিতে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আন্দোলন থামেনি। পুলিশ পূর্বে যন্তর মন্তর থেকে মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও, আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে পুনরায় অবস্থান নিয়ে সেখানে নিজেদের মঞ্চ ও তাঁবু পুনঃস্থাপন করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।






















