হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ দুই মাস পর মাঠে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্পেন। প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষস্থান দখল করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা স্পেন মাত্র ১০ মিনিটেই লিড নেয়। মিকেল ওয়ারজাবালের নিচু ক্রস থেকে সহজেই বল জালে পাঠান ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ গোলখরা (২,৫০০-এর বেশি পাস এবং ৫০টিরও বেশি শট নেওয়ার পর) কাটে। এরপর শুরু হয় মিকেল ওয়ারজাবালের একক প্রদর্শনী। প্রথমে অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে বল পেয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং এর মাত্র তিন মিনিট পর ডানি ওলমোর পাস থেকে দারুণ ভলিতে গোল করে ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও তার একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ভাগ্য প্রথমার্ধেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় স্প্যানিশ কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে সতর্কতাবশত বিরতির সময়ই ইয়ামাল ও ওয়ারজাবালকে মাঠ থেকে তুলে নেন। তবে তারকা খেলোয়াড়দের পরিবর্তনের পরও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে আসা মার্ক কুকুরেলার একটি শট সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল দুর্ভাগ্যবশত সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-টামবাকতির গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
নিজের ৬৫তম জন্মদিনে কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য ম্যাচটি ছিল এক দারুণ উপহার। প্রথম ম্যাচের পর মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন তার শিষ্যরা। এই ম্যাচে ইয়ামালের পাশাপাশি পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো ও এ্যালেক্স বায়েনাও শুরুর একাদশে সুযোগ পান। এছাড়া দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ঘরোয়া লিগে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও জাতীয় দলে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখাতে না পেরে চরম হতাশ সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিস। বিশেষ করে কর্নার থেকে দুটি গোল হজম করায় তার দলের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সাথে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরবকে নকআউট পর্বে যেতে হলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হিউস্টোনে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হতে হবে। সেখানে জয় পেলে ৩২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে এ্যারাবিয়ান ফ্যালকন্সদের সামনে। আর আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে শক্তিশালী স্পেন।




















