০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে চাঁদা আদায়, নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, শব্দদূষণ ও বিদ্যুৎ অপচয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ৪৩টিরও বেশি স্টলসংবলিত এই মেলায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না দেওয়ায় জেলার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, জেলাজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলা সত্ত্বেও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোকসজ্জা এবং দিনভর উচ্চ শব্দে ডিজে ও সাউন্ডবক্স বাজানোয় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

মেলা পরিচালনার আর্থিক স্বচ্ছতা ও স্থান নির্বাচন নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। শুরুর প্রথম সপ্তাহে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে প্রতি দর্শনার্থীর কাছ থেকে ১০ টাকা করে টিকিট কেটে অর্থ আদায় শুরু হয়, যার ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে। তাছাড়াও, মেলা প্রাঙ্গণের চারপাশের অস্থায়ী ফুচকা, চটপটি ও বাদামের দোকান এবং জেলা প্রশাসনের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা গ্যারেজ থেকেও মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দৈনিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সন্নিকটে এমন মেলার আয়োজন নিয়েও অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, আকর্ষণীয় প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে মেলায় এসে নিম্নমানের পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী কিনে প্রতারিত হওয়ার দাবি করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মেহেদী হাসান জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ও নিয়ম মেনেই সব পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে কোনো অনিয়ম বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, মেলার অনুমতির সময় কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং তা মেনেই মেলা চালাতে হবে; তবে চাঁদা আদায় ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মূল উদ্দেশ্য বজায় রাখতে মেলা প্রাঙ্গণে এসব অনিয়ম ও হয়রানি তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।

1 October 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা

Spread the love
জনপ্রিয়

আধুনিক আবাসিক ভবন পাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা

আপডেট সময় : ০১:২০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে চাঁদা আদায়, নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, শব্দদূষণ ও বিদ্যুৎ অপচয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ৪৩টিরও বেশি স্টলসংবলিত এই মেলায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না দেওয়ায় জেলার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, জেলাজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলা সত্ত্বেও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোকসজ্জা এবং দিনভর উচ্চ শব্দে ডিজে ও সাউন্ডবক্স বাজানোয় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

মেলা পরিচালনার আর্থিক স্বচ্ছতা ও স্থান নির্বাচন নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। শুরুর প্রথম সপ্তাহে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে প্রতি দর্শনার্থীর কাছ থেকে ১০ টাকা করে টিকিট কেটে অর্থ আদায় শুরু হয়, যার ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে। তাছাড়াও, মেলা প্রাঙ্গণের চারপাশের অস্থায়ী ফুচকা, চটপটি ও বাদামের দোকান এবং জেলা প্রশাসনের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা গ্যারেজ থেকেও মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দৈনিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সন্নিকটে এমন মেলার আয়োজন নিয়েও অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, আকর্ষণীয় প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে মেলায় এসে নিম্নমানের পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী কিনে প্রতারিত হওয়ার দাবি করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মেহেদী হাসান জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ও নিয়ম মেনেই সব পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে কোনো অনিয়ম বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, মেলার অনুমতির সময় কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং তা মেনেই মেলা চালাতে হবে; তবে চাঁদা আদায় ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মূল উদ্দেশ্য বজায় রাখতে মেলা প্রাঙ্গণে এসব অনিয়ম ও হয়রানি তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।

1 October 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা

Spread the love