পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭ নম্বর হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই আলমের বিরুদ্ধে একই সাথে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ, পরিষদের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ উত্তোলন এবং চাল পরিবহনের টাকা অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় দামুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদার রহমান। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাইয়েদ নূর-ই আলম হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োমিত সম্মানী ও উপজেলা ভাতা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হাড়িভাসা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা তুলছেন। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের এক স্মারকপত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক একই সাথে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সম্মানী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণ বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না। ফলে একই সাথে দুই স্থান থেকে অর্থ গ্রহণ করাকে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এছাড়া, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের দাপ্তরিক ব্যবহারের জন্য প্রদান করা একটি মোটরসাইকেল ইউপি চেয়ারম্যান নিজ বাড়িতে রেখে পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। পরিষদের হিসাব সহকারী শাহাদাত হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তিনি বাইকটি পরিষদে দেখেননি।
অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের মধ্যে বলা হয়, ভিডাব্লিউবি (ভিজিডি) চাল পরিবহনের খরচ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বহন করা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান গত বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের পরিবহন ভাড়া বাবদ পরিষদ থেকে ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। একই সাথে, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা জ্বালানি খরচের বিধান থাকলেও তিনি গত কয়েক মাস ধরে প্রতি মাসে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করে আসছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নূর-ই আলম জানান, তিনি মাদ্রাসায় চাকরির সুবাদে বেতন নেন এবং পরিষদের ভাতা সরকার দেয় দেখেই গ্রহণ করছেন; এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে তার ব্যাখ্যা ইউএনও অফিস দিতে পারবে। জ্বালানি খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত ৭০০ টাকায় কাজ সম্পন্ন হয় না বলে বাস্তব খরচ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। আর মোটরসাইকেলটি পরিষদে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল বিধায় সচল রাখার উদ্দেশ্যে তিনি তা বাড়িতে এনে মাঝে মাঝে ব্যবহার করেন। সমগ্র বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা।






















