১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে স্পিকার হাফিজ: ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • 46

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে স্পিকার হাফিজ: ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক ও মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য এই ব্যাপক আয়োজনে যোগ দিতে স্পিকার জুলাইয়ের শুরুতেই ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ অভিযানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তার জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তেহরানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন এবং পুরো দেশজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণে এটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম শোকযাত্রায় রূপ নিতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিতে ইরান তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন, ভারত ও বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

তবে খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রাথমিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হামলার পর প্রথম বিবৃতিতে ঘটনার তীব্রতা ও আক্রমণকারীদের সরাসরি নিন্দা না জানিয়ে সাধারণ শোক প্রকাশ করায় অভ্যন্তরীণভাবে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদিও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, একটি মুসলিম দেশ হিসেবে ইরান বাংলাদেশের কাছ থেকে নৈতিক সহানুভূতি ও জোরালো সমর্থন আশা করে। তার এই মন্তব্য দেশীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পরদিন বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে ঘটনার প্রতি ‘গভীর শোক’ প্রকাশের পাশাপাশি একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে ঢাকার প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পুরোপুরি সফল না হলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঢাকাস্থ ইরানি দূতাবাসে রক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং জাতীয় সংসদেও এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকারের এই ইরান সফর বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ওআইসি ও ন্যামের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সমর্থন আদায়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

30 September 2026

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে স্পিকার হাফিজ: ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

Spread the love
জনপ্রিয়

ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে স্পিকার হাফিজ: ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক ও মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য এই ব্যাপক আয়োজনে যোগ দিতে স্পিকার জুলাইয়ের শুরুতেই ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ অভিযানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তার জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তেহরানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন এবং পুরো দেশজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণে এটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম শোকযাত্রায় রূপ নিতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিতে ইরান তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন, ভারত ও বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

তবে খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রাথমিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হামলার পর প্রথম বিবৃতিতে ঘটনার তীব্রতা ও আক্রমণকারীদের সরাসরি নিন্দা না জানিয়ে সাধারণ শোক প্রকাশ করায় অভ্যন্তরীণভাবে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদিও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, একটি মুসলিম দেশ হিসেবে ইরান বাংলাদেশের কাছ থেকে নৈতিক সহানুভূতি ও জোরালো সমর্থন আশা করে। তার এই মন্তব্য দেশীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পরদিন বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে ঘটনার প্রতি ‘গভীর শোক’ প্রকাশের পাশাপাশি একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে ঢাকার প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পুরোপুরি সফল না হলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঢাকাস্থ ইরানি দূতাবাসে রক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং জাতীয় সংসদেও এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকারের এই ইরান সফর বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ওআইসি ও ন্যামের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সমর্থন আদায়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

30 September 2026

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে স্পিকার হাফিজ: ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

Spread the love