সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন বা ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর সুপারিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করতে পারে। এরপর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় যাবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী আগস্টের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং তা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে এটি এক ধাপে নাকি একাধিক ধাপে বাস্তবায়িত হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
এবারের বেতনকাঠামোয় কেবল মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং ভাতা ও পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাকে নতুন করে পুনর্বিন্যাস ও একীভূত করার পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সুবিধাও যুক্ত হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় এসআরও-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। ২০১৫ সালের পর গত এক দশকে শুধু বার্ষিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির বাইরে ভাতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় পরিবর্তন হয়নি, তাই সচিব কমিটির চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর এই পে-স্কেল কার্যকর হলে এটিই হবে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বেতন সংস্কার।













