বাংলাদেশ রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর সৈয়দপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে কারখানা এবং বিপুলসংখ্যক রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসবাস থাকলেও তাদের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটি এখন কার্যত রোগীশূন্য ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শত কোটি টাকার বিপুল অবকাঠামো ও মূল্যবান স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও সহায়ক জনবলের চরম ঘাটের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রেলওয়ের কর্মীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একজন ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার (পার্থ সারতী বণিক) দিয়ে নামমাত্র চলছে এর কার্যক্রম। তাকে একাধারে সৈয়দপুর, লালমনিরহাট ও পার্বতীপুর—এই তিনটি রেলওয়ে হাসপাতালের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে কোনো হাসপাতালেই নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি ৯ আগস্ট হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায় এক ভূতুড়ে পরিবেশ। বহির্বিভাগের বাইরে কক্ষগুলো তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতরে ফ্যান ঘুরছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া যাওয়া ড্রেসার রেজাউল হক জানান, একমাত্র যে চিকিৎসক আছেন তিনিও অনুপস্থিত। তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে এভাবে একটি সরকারি হাসপাতাল চলতে পারে না এবং এখানে সরকারের দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্তর্বিভাগের এক পাশে খালি সিট পড়ে থাকলেও অন্য পাশে মাত্র ৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।
একসময় বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে নিয়মিত রোগীর চাপ থাকলেও জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে ধীরে ধীরে সেবা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এই হাসপাতালে তীব্র সংকটের কথা উঠে আসে। এমনকি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম ও জনবল অভাবে এটি প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে রেলওয়ে ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঢাকা, রাজশাহী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালকে যৌথ ব্যবস্থাপনায় এনে সাধারণ মানুষের জন্যও চিকিৎসাসেবা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ছিল।
তবে বাস্তব চিত্র এখনো বদলায়নি। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ফলে সেবা না পেয়ে রোগীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং রেলকর্মীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সরকারি সম্পদের চরম অপচয়। সচেতন মহল ও রেলকর্মীদের দাবি, হাসপাতালটিকে সচল করতে হলে অবিলম্বে স্থায়ী চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে এবং একজন চিকিৎসকের ওপর একাধিক হাসপাতালের দায়িত্ব চাপানো বন্ধ করতে হবে। হাজার হাজার রেলকর্মীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর হওয়া থেকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।






















