দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটিয়ে রাজধানীর বাসাবাড়ি ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ফিরে এসেছে স্বাভাবিকতার ছন্দ। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। গতকাল রাত থেকে চাপ বাড়তে থাকায় শিল্প-কারখানার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ করার ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬১ কোটি ঘনফুট, যার প্রভাবে সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।
গ্যাসের চাপ বাড়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চেনা দৃশ্য এখন আর নেই। যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী, মানিকনগর, বকশীবাজার ও গাবতলীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমেছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও চালকরা জানান, কমপ্রেস করার পর আগে যেখানে চাপ ১৩০ থেকে ১৩৫ ছিল, তা এখন ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে। ফলে চালকরা খুব অল্প সময়েই চাহিদামতো গ্যাস নিতে পারছেন এবং সড়ক যোগাযোগে গতি ফিরেছে।
অন্যদিকে, বাসাবাড়ির রান্নাঘরেও ফিরেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি। গ্যাসের অভাবে যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতেন বা হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হতেন, তারা এখন নির্বিঘ্নে তিনবেলার রান্না শেষ করতে পারছেন। কলাবাগান ও মানিকনগরের সাধারণ বাসিন্দারা জানান, সকালে ঝক্কি ছাড়াই পুরো পরিবারের নাস্তা ও দুপুরের রান্না করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য এলএনজি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।






















