১২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক

১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

  • আপডেট সময় : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • 93

১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং এর জেরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ব্যাংকটিতে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। গত সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
৫ কার্যদিবসে ৪,৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ব্যাংক খোলার পর মাত্র ৫ কার্যদিবসে (গত রোববার পর্যন্ত) ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই উত্তোলনের পরিমাণ অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে তারা আমানত তুলে নিচ্ছেন।
সিআরআর ঘাটতির আশঙ্কা

অতিরিক্ত এই নগদ উত্তোলনের ফলে ইসলামী ব্যাংক আবারও তাদের বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর (CRR) বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে চাপে পড়েছে। এই তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করতেই মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ দ্বারস্থ হওয়া।

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:

“বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা আমাদের চলতি হিসাবে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। কিছুদিন আগেও এই ব্যালেন্স ছিল ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি। তবে সাম্প্রতিক টানা উত্তোলনের চাপে তা কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সিআরআর ঘাটতি এড়াতেই এই আগাম সহায়তার আবেদন।”

অস্থিরতার মূলে খুরশীদ আলমের নিয়োগ ও আন্দোলন

ইসলামী ব্যাংকের এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত মূলত এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই নিয়োগের পরপরই ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ ব্যাংকটির সামনে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলা এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ:

বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

এই আন্দোলনের জেরেই সাধারণ গ্রাহকদের মনে এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের নগদ প্রবাহে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

3 November 2026

১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

টানবাজারে বন্ডের কেমিক্যাল কালোবাজারি: গুদাম সিলগালা, জব্দ ৮১.৬ টন

তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক

১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

আপডেট সময় : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং এর জেরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ব্যাংকটিতে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। গত সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
৫ কার্যদিবসে ৪,৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ব্যাংক খোলার পর মাত্র ৫ কার্যদিবসে (গত রোববার পর্যন্ত) ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই উত্তোলনের পরিমাণ অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে তারা আমানত তুলে নিচ্ছেন।
সিআরআর ঘাটতির আশঙ্কা

অতিরিক্ত এই নগদ উত্তোলনের ফলে ইসলামী ব্যাংক আবারও তাদের বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর (CRR) বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে চাপে পড়েছে। এই তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করতেই মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ দ্বারস্থ হওয়া।

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:

“বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা আমাদের চলতি হিসাবে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। কিছুদিন আগেও এই ব্যালেন্স ছিল ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি। তবে সাম্প্রতিক টানা উত্তোলনের চাপে তা কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সিআরআর ঘাটতি এড়াতেই এই আগাম সহায়তার আবেদন।”

অস্থিরতার মূলে খুরশীদ আলমের নিয়োগ ও আন্দোলন

ইসলামী ব্যাংকের এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত মূলত এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই নিয়োগের পরপরই ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ ব্যাংকটির সামনে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলা এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ:

বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

এই আন্দোলনের জেরেই সাধারণ গ্রাহকদের মনে এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের নগদ প্রবাহে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

3 November 2026

১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

Spread the love