০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুকান্তের কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মশতবর্ষের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

সুকান্তের কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মশতবর্ষের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

বাংলা সাহিত্যের ক্ষণজন্মা কবি, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর ও তারুণ্যের স্বপ্ন-সংগ্রামের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শহরের বন্ধু হোটেল, ক্লাব সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘বাসাপ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সাহিত্যিক আয়োজনে কবি-সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক, কবি সামসুল ইসলাম টুকু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবক, সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবী মো. ফয়সাল আজম অপু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য শুধু একটি নাম নন, তিনি বাংলা কবিতায় এক অনন্য চেতনার নাম। তিনি কবিতাকে কেবল সৌন্দর্যের অলংকার হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের কথা বলার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ, নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদ, শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্ন, তরুণ প্রজন্মের সাহস এবং বৈষম্যহীন মানবিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা।

বিশেষ অতিথি ফয়সাল আজম অপু বলেন, “কবিতা শুধু আবেগ নয়, কবিতা বিবেকও। কবিতা শুধু সৌন্দর্য নয়, কবিতা প্রতিবাদও। কবিতা শুধু স্বপ্ন নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহসও।”

আরও বলেন, সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে, প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে; কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন এবং বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই সুকান্ত ভট্টাচার্যকে শুধু জন্মশতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর সাহিত্য ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করতে হবে নতুন প্রজন্মের চিন্তা, সংস্কৃতি ও আচরণে।

একটি জাতির চিন্তার গভীরতা তৈরি হয় তার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। নতুন প্রজন্মকে বই পড়া, কবিতা পাঠ ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। কবিতা ও সাহিত্য মানুষের হৃদয়কে কোমল করে এবং সমাজকে আরও মানবিক করে তোলে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্যকর্ম বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র এক ধারা সৃষ্টি করেছে। তাঁর রচনায় যেমন রয়েছে মানবিকতা, তেমনি রয়েছে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। মাত্র অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তিনি বাংলা সাহিত্যে যে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন, তা আজও পাঠকসমাজকে আলোড়িত করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যপ্রেমী ডাঃ মোঃ ওমর ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক আবুল বাসার বাদল, কবি সাহিত্যিক বীজহান তারিফ অপু, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ বশির আলী।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কবি, সাহিত্যিক ওমর ফারুক সেলিম, সভাপতি, বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি আশরাফুল ইসলাম।

আলোচনা পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির মাধ্যমে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর সৃষ্টিকে স্মরণ করা হয়। কবির জীবন, সাহিত্যকর্ম, সমাজভাবনা এবং তাঁর কবিতার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক ও অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সুকান্তের সাহিত্যচেতনা ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

শেষে মহান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তাঁর অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জয় হোক কবিতার, জয় হোক সাহিত্যের, জয় হোক মানবতার।

4 October 2026

সুকান্তের কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মশতবর্ষের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

Spread the love
জনপ্রিয়

ভোলাহাটে পারিবারিক কলহে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে নারীর মৃত্যু

সুকান্তের কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মশতবর্ষের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

আপডেট সময় : ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা সাহিত্যের ক্ষণজন্মা কবি, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর ও তারুণ্যের স্বপ্ন-সংগ্রামের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শহরের বন্ধু হোটেল, ক্লাব সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘বাসাপ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সাহিত্যিক আয়োজনে কবি-সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক, কবি সামসুল ইসলাম টুকু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবক, সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবী মো. ফয়সাল আজম অপু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য শুধু একটি নাম নন, তিনি বাংলা কবিতায় এক অনন্য চেতনার নাম। তিনি কবিতাকে কেবল সৌন্দর্যের অলংকার হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের কথা বলার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ, নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদ, শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্ন, তরুণ প্রজন্মের সাহস এবং বৈষম্যহীন মানবিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা।

বিশেষ অতিথি ফয়সাল আজম অপু বলেন, “কবিতা শুধু আবেগ নয়, কবিতা বিবেকও। কবিতা শুধু সৌন্দর্য নয়, কবিতা প্রতিবাদও। কবিতা শুধু স্বপ্ন নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহসও।”

আরও বলেন, সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে, প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে; কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন এবং বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই সুকান্ত ভট্টাচার্যকে শুধু জন্মশতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর সাহিত্য ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করতে হবে নতুন প্রজন্মের চিন্তা, সংস্কৃতি ও আচরণে।

একটি জাতির চিন্তার গভীরতা তৈরি হয় তার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। নতুন প্রজন্মকে বই পড়া, কবিতা পাঠ ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। কবিতা ও সাহিত্য মানুষের হৃদয়কে কোমল করে এবং সমাজকে আরও মানবিক করে তোলে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্যকর্ম বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র এক ধারা সৃষ্টি করেছে। তাঁর রচনায় যেমন রয়েছে মানবিকতা, তেমনি রয়েছে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। মাত্র অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তিনি বাংলা সাহিত্যে যে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন, তা আজও পাঠকসমাজকে আলোড়িত করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যপ্রেমী ডাঃ মোঃ ওমর ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক আবুল বাসার বাদল, কবি সাহিত্যিক বীজহান তারিফ অপু, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ বশির আলী।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কবি, সাহিত্যিক ওমর ফারুক সেলিম, সভাপতি, বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি আশরাফুল ইসলাম।

আলোচনা পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির মাধ্যমে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর সৃষ্টিকে স্মরণ করা হয়। কবির জীবন, সাহিত্যকর্ম, সমাজভাবনা এবং তাঁর কবিতার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক ও অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সুকান্তের সাহিত্যচেতনা ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

শেষে মহান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তাঁর অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জয় হোক কবিতার, জয় হোক সাহিত্যের, জয় হোক মানবতার।

4 October 2026

সুকান্তের কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মশতবর্ষের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

Spread the love