০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে দুই পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মী আহত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে চালু থাকা দুটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ এর বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলসে এ ঘটনা ঘটে।

কারখানা দুটির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় সেখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। বাইরে থেকে একদল লোক এসে কারখানার সামনে জড়ো হওয়ার পর হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার আশঙ্কায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে হামলাকারীরা কারা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেশওয়ান অ্যাপারেলস ঘুরে দেখা যায়, কারখানাটির সামনের অংশের কাচ ভাঙা। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কারখানাটির সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সামনের অংশের কাচ ভেঙে যায়। এ সময় কারখানার শ্রমিকেরা নিচে নেমে এসে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেন।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, ‘আমাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ইট দিয়ে ঢিল মেরে কাচ ভেঙেছে। আমাদের শ্রমিকেরা নেমে এসে ভাঙচুরে বাধা দেন। পরে হামলাকারীরা পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনের দিকে চলে যায়।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলছিলেন,দেশওয়ান অ্যাপারেলস বন্ধ হয়ে গেছে, পাশের কারখানায় কাজ চলছে। এরপর তারা পাশের কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর চালান।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, হামলাকারীরা ওই কারখানার শ্রমিক ছিলেন না। তিনি বলেন, পণ্য সরবরাহের (শিপমেন্ট) সময় ঘনিয়ে আসায় এবং শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল। কারখানার শ্রমিকেরাও বিষয়টি জানতেন এবং নিজেরাই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেছেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করা হয়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনে ভাঙচুর, আহত নিরাপত্তাকর্মী দেশওয়ান অ্যাপারেলসের পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কাচ ও শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। কারখানাটির চতুর্থ তলাতেও ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। এ সময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে যায়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এক থেকে দেড় শ লোক কারখানাটিতে হামলা চালান। তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকালে কারখানার শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ বাইরে থেকে শতাধিক লোক এসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলাকারীরা আসার পর শ্রমিকদের কারখানা থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ভাঙচুর থামেনি।

সিরাজুল ইসলামের দাবি, হামলাকারীদের অনেকের গলায় পরিচয়পত্র দেখা গেছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ধারণা, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কিছু কারখানা চালু থাকায় সেখানে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। ভাঙচুরে তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান ফটকে সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে একটি লিখিত নোটিশ টাঙিয়ে দিতে দেখা যায়।

ভাঙচুরের কারণ দেখছেন না পুলিশ কর্মকর্তা এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস, উত্তর) মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কাজ চলছে। গতকাল মজুরি বোর্ড গঠনের পর বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে আর রাস্তা বন্ধ করা, রোড ব্লক করা, গাড়ি ভাঙচুর করা বা কোনো ধরনের কারখানায় ভাঙচুর করার কোনো কারণ আমরা দেখছি না।

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

2 November 2026

মিরপুরে দুই পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মী আহত

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

টানবাজারে বন্ডের কেমিক্যাল কালোবাজারি: গুদাম সিলগালা, জব্দ ৮১.৬ টন

মিরপুরে দুই পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মী আহত

আপডেট সময় : ০৬:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে চালু থাকা দুটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ এর বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলসে এ ঘটনা ঘটে।

কারখানা দুটির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় সেখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। বাইরে থেকে একদল লোক এসে কারখানার সামনে জড়ো হওয়ার পর হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার আশঙ্কায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে হামলাকারীরা কারা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেশওয়ান অ্যাপারেলস ঘুরে দেখা যায়, কারখানাটির সামনের অংশের কাচ ভাঙা। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কারখানাটির সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সামনের অংশের কাচ ভেঙে যায়। এ সময় কারখানার শ্রমিকেরা নিচে নেমে এসে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেন।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, ‘আমাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ইট দিয়ে ঢিল মেরে কাচ ভেঙেছে। আমাদের শ্রমিকেরা নেমে এসে ভাঙচুরে বাধা দেন। পরে হামলাকারীরা পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনের দিকে চলে যায়।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলছিলেন,দেশওয়ান অ্যাপারেলস বন্ধ হয়ে গেছে, পাশের কারখানায় কাজ চলছে। এরপর তারা পাশের কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর চালান।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, হামলাকারীরা ওই কারখানার শ্রমিক ছিলেন না। তিনি বলেন, পণ্য সরবরাহের (শিপমেন্ট) সময় ঘনিয়ে আসায় এবং শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল। কারখানার শ্রমিকেরাও বিষয়টি জানতেন এবং নিজেরাই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেছেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করা হয়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনে ভাঙচুর, আহত নিরাপত্তাকর্মী দেশওয়ান অ্যাপারেলসের পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কাচ ও শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। কারখানাটির চতুর্থ তলাতেও ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। এ সময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে যায়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এক থেকে দেড় শ লোক কারখানাটিতে হামলা চালান। তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকালে কারখানার শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ বাইরে থেকে শতাধিক লোক এসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলাকারীরা আসার পর শ্রমিকদের কারখানা থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ভাঙচুর থামেনি।

সিরাজুল ইসলামের দাবি, হামলাকারীদের অনেকের গলায় পরিচয়পত্র দেখা গেছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ধারণা, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কিছু কারখানা চালু থাকায় সেখানে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। ভাঙচুরে তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান ফটকে সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে একটি লিখিত নোটিশ টাঙিয়ে দিতে দেখা যায়।

ভাঙচুরের কারণ দেখছেন না পুলিশ কর্মকর্তা এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস, উত্তর) মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কাজ চলছে। গতকাল মজুরি বোর্ড গঠনের পর বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে আর রাস্তা বন্ধ করা, রোড ব্লক করা, গাড়ি ভাঙচুর করা বা কোনো ধরনের কারখানায় ভাঙচুর করার কোনো কারণ আমরা দেখছি না।

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

2 November 2026

মিরপুরে দুই পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মী আহত

Spread the love