রাজধানীর ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।
শনিবার ( ২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শুরু হওয়া মিছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বাটা শোরুমের সামনে এসে শেষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি মিছিল সাত মসজিদ রোড থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের পাশ দিয়ে আইএসটি কলেজের পাশ দিয়ে বাটা শোরুমের সামনে আসে। সেখানে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় বলে জানা গেছে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মিছিলকারীদের ‘শুভ শুভ শুভ দিন, শেখ হাসিনার জন্মদিন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে ‘পার্টি স্মোক’ ছিটানোর পাশাপাশি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা গেছে।
পুলিশ জানায়, মিছিল শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানমন্ডি থানা পুলিশ তিনজনকে আটক করে। এ সময় একটি ব্যানারও উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আরও একজনকে আটক করেছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। মিছিল শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একটি ব্যানারও উদ্ধার করা হয়েছে।’
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, ধানমন্ডি এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের নির্দেশে মিছিলটি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিছিলের ব্যানারে পলাতক সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছবি দেখা গেছে।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ, গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন ও দুই পরিদর্শককে (মিজানুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান) প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একই ঘটনায় পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান সরদার নুরুল আমিন ও সিটিএসবির ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এসব গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। তবে এরপরেও নিষিদ্ধ দলের অপকর্ম থামানো যায়নি। বিশেষ করে— সর্বশেষ গতসপ্তাহের শুরুতে পরপর দুইদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও একাধিক বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে কমলাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধে গুটি কয়েকজনকে আটক করা হলেও বড় অংশকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
এদিকে ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ দলের মিছিলের পর রমনা বিভাগের ডিসি এবং ধানমন্ডি থানার ওসির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে পুলিশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে রাজারবাগের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে তথ্য দিয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।






















