০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • 39

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

আর্থিক টানাফোড়ন এবং কাঁচামালের তীব্র সংকটের কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের ফলে কারখানাগুলোতে কর্মরত চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। শ্রমিকদের দেয়া তথ্যমতে, নোটিশের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তাদের পাওনা ও বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কতৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নোটিশ বোর্ডে কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা নিশ্চিত করে। এই আকস্মিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা যায়, বন্ধ হওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানাটিতেই ৫০০ জন স্থায়ী এবং প্রায় ২০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন। সব মিলিয়ে এই শিল্প ইউনিটগুলোতে সাড়ে ৪ হাজারের মতো কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক ঋণের জটিলতা এবং কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একের পর এক সংকট তৈরি হয়। পূর্বে আংশিক কার্যক্রম চালু রাখলেও এবার চূড়ান্তভাবে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

তবে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, কারখানা বন্ধের এই সিদ্ধান্তটি আকস্মিক নয়, বরং এটি দীর্ঘ দুই বছরের পরিচালনাগত অচলাবস্থারই চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও বেশ কিছু কর্মীকে যথাযথ গ্র্যাচুইটি ও সার্ভিস বেনিফিটসহ (কারো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত) প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে বিদায় দেওয়া হয়েছিল। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি এবং একটি পশুখাদ্য কারখানা। তবে গ্রুপের আওতাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

1 October 2026

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

Spread the love
জনপ্রিয়

গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

আর্থিক টানাফোড়ন এবং কাঁচামালের তীব্র সংকটের কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের ফলে কারখানাগুলোতে কর্মরত চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। শ্রমিকদের দেয়া তথ্যমতে, নোটিশের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তাদের পাওনা ও বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কতৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নোটিশ বোর্ডে কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা নিশ্চিত করে। এই আকস্মিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা যায়, বন্ধ হওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানাটিতেই ৫০০ জন স্থায়ী এবং প্রায় ২০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন। সব মিলিয়ে এই শিল্প ইউনিটগুলোতে সাড়ে ৪ হাজারের মতো কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক ঋণের জটিলতা এবং কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একের পর এক সংকট তৈরি হয়। পূর্বে আংশিক কার্যক্রম চালু রাখলেও এবার চূড়ান্তভাবে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

তবে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, কারখানা বন্ধের এই সিদ্ধান্তটি আকস্মিক নয়, বরং এটি দীর্ঘ দুই বছরের পরিচালনাগত অচলাবস্থারই চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও বেশ কিছু কর্মীকে যথাযথ গ্র্যাচুইটি ও সার্ভিস বেনিফিটসহ (কারো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত) প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে বিদায় দেওয়া হয়েছিল। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি এবং একটি পশুখাদ্য কারখানা। তবে গ্রুপের আওতাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

1 October 2026

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

Spread the love