মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ ও পরিশোধ স্থগিতকরণ এবং টেকসই ঋণ সমাধানে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ দাবি জানান। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও উপস্থিত ছিলেন। আজ (শনিবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন যে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং ঋণের বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে শিশু, নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে পারে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ধরে রাখতে পারে, সে জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার মূলত একটি সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নারী। এই লক্ষ্য অর্জনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গর্ভাবস্থা, শৈশব, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান কার্ড, ওয়ান নম্বর অ্যান্ড ওয়ান ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন এবং শিশুদের সার্বিক বিকাশে বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ও পরিকল্পনাগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশু ও নারীর সুরক্ষায় যে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। বৈঠকে উত্থাপিত অগ্রাধিকারগুলোকে স্বাগত জানিয়ে টেড শাইবান শিক্ষা, প্রাথমিক শৈশব উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ব্যাপারে ইউনিসেফের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



















