অসহায় জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • 14

গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধার সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সুজন তার পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার করুণ বর্ণনা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। তিনি সুজনকে নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি এখন আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে বর্তমানে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে সুজনের পুরো পরিবার এখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত। তার বাবা স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বিবাহবিচ্ছেদের পর তার বোনও এখন সুজনদের সাথেই থাকছেন। অন্যদিকে সুজনের স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয়ভার বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন চরম অসহায় পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার আশায় জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন তিনি।

সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা প্রদানকালে ফরিদা খানম বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন উল্লেখ করে ডিসি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানুষের কল্যাণে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

প্রশাসনের এই তড়িৎ মানবিক সহায়তায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুলাইযোদ্ধা সুজন। তিনি বলেন, “আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগতো। অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পঙ্গু জীবনে এবং আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।”

13 June 2026

অসহায় জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

জনপ্রিয়

২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের

অসহায় জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

আপডেট সময় : ০২:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সুজন তার পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার করুণ বর্ণনা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। তিনি সুজনকে নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি এখন আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে বর্তমানে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে সুজনের পুরো পরিবার এখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত। তার বাবা স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বিবাহবিচ্ছেদের পর তার বোনও এখন সুজনদের সাথেই থাকছেন। অন্যদিকে সুজনের স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয়ভার বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন চরম অসহায় পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার আশায় জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন তিনি।

সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা প্রদানকালে ফরিদা খানম বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন উল্লেখ করে ডিসি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানুষের কল্যাণে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

প্রশাসনের এই তড়িৎ মানবিক সহায়তায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুলাইযোদ্ধা সুজন। তিনি বলেন, “আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগতো। অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পঙ্গু জীবনে এবং আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।”

13 June 2026

অসহায় জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম