কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে। পাকিস্তান আমল থেকে চালু থাকা ও প্রতিদিন শতাধিক সাধারণ রোগী ও গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এই সচল হাসপাতালটিকে ‘পরিত্যক্ত’ দেখিয়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ নভেম্বর সকালে জেলা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকর্মীকে নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা করেন এবং সেখানে মার্কেট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট এনে রাখেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভৈরবের সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিএস খতিয়ানে জমিটি জেলা পরিষদের নামে থাকলেও বিএস খতিয়ানে তা স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছে। এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এবং স্থানীয় ইউএনও জানিয়েছেন যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখানো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী স্বীকার করেছেন যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল থাকলেও বাকি জায়গায় তারা মার্কেট করবেন এবং কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে, তবে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগটি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং সচল এই চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত না করে বরং এটিকে আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। এছাড়া স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী এখানে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।





















