সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুদিনে পরপর দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। গতকাল রোববার বিমানবন্দরে চালানো এই হামলায় ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার হলে আগুন ধরে যায়; এতে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। এর ঠিক একদিন আগে একই বিমানবন্দরে চালানো অন্য একটি ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশ থেকে দুজন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জর্দান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় দূতাবাস। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার পর এটিই উপসাগরীয় কোনো দেশে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী একক হামলার ঘটনা।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। শুধু রিয়াদই নয়, পূর্ব সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারগুলোতেও একই সাথে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি জানান। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব দিতেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে উল্লেখ করে হুথি মুখপাত্র হুংকার দেন যে, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরই এখন তাদের সম্ভাব্য টার্গেট এবং সৌদির ভেতরে এই অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার হলে আগুন ধরে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। সৌদি জোট এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও নিজ দেশের এক নাগরিকের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য।






















