০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • 18

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দর বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আক্রমণের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিক এই অস্থিরতার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সাম্প্রতিক সুবিধাজনক ঘোষণাও আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে পারছে না।

বাজারের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২৪ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ১০৬.১৯ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ২৪ মিনিট) তেলের এই দর নথিভুক্ত হয়, যা গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ১.১১ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ৯২.৯৬ ডলারে উঠে আসে। এর আগে দাম কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার খবরে তা আবার হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।

জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে প্রধান কারণ সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণ। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা, যে ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। এরপর রবিবার একই বিমানবন্দরে আবারও হামলায় ১ জন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর মেলে। এই ঘটনাগুলোর পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে সার্বিক তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা সংকট। চলতি মাসে এ নৌপথে একের পর এক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এই কৌশলগত পথে নৌচলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ব বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অন্যদিতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক ঘোষণাও বাজারের এই আতঙ্ক কমাতে পারছে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সংগ্রহের সমঝোতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে পরস্পর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের এক ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সমুদ্রপথে চলাচলের ঝুঁকি সেই স্বস্তিকে ছাপিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু অতিরিক্ত সরবরাহের ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ সংকুচিত করা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এই চড়া দাম আরও কিছুদিন বজায় থাকবে।

12 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Spread the love
জনপ্রিয়

লালবাগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট সময় : ০৭:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দর বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আক্রমণের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিক এই অস্থিরতার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সাম্প্রতিক সুবিধাজনক ঘোষণাও আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে পারছে না।

বাজারের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২৪ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ১০৬.১৯ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ২৪ মিনিট) তেলের এই দর নথিভুক্ত হয়, যা গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ১.১১ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ৯২.৯৬ ডলারে উঠে আসে। এর আগে দাম কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার খবরে তা আবার হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।

জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে প্রধান কারণ সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণ। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা, যে ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। এরপর রবিবার একই বিমানবন্দরে আবারও হামলায় ১ জন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর মেলে। এই ঘটনাগুলোর পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে সার্বিক তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা সংকট। চলতি মাসে এ নৌপথে একের পর এক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এই কৌশলগত পথে নৌচলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ব বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অন্যদিতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক ঘোষণাও বাজারের এই আতঙ্ক কমাতে পারছে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সংগ্রহের সমঝোতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে পরস্পর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের এক ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সমুদ্রপথে চলাচলের ঝুঁকি সেই স্বস্তিকে ছাপিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু অতিরিক্ত সরবরাহের ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ সংকুচিত করা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এই চড়া দাম আরও কিছুদিন বজায় থাকবে।

12 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Spread the love