এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দাখিল ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ: সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব এবং সম্পদ বিবরণী ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলে এনবিআর জানায় যে, ২০২৫ সালের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যরা সম্পদের বিবরণী দাখিল করেছেন।
রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতি শুধু সরকারি রাজস্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং করদাতাদের মধ্যে কর পরিশোধের অনাগ্রহ ও অনাস্থাও তৈরি করে। বিভিন্ন সময়ে এনবিআরের বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ঘুস গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায়ও কর প্রশাসনে দুর্নীতির ব্যাপকতা এবং করদাতাদের জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিয়মিত সম্পদের হিসাব জমা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং অন্যান্য করদাতাদের মতো দৈবচয়নের ভিত্তিতে বা স্বাধীন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বিবরণীর যথার্থতা ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এটিকে কোনো বিশেষ সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে সুশাসন ফেরাতে এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিশেষ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথককরণের উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।






















