১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেবা দলিলে উৎসে কর নয়, কেবল ‘দানকর’ প্রযোজ্য: এনবিআর

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • 109

হেবা দলিলে উৎসে কর নয়, কেবল ‘দানকর’ প্রযোজ্য: এনবিআর

নতুন আয়কর আইন ও বিধিমালার ভাষাগত অস্পষ্টতার কারণে মাঠপর্যায়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সম্পত্তির হেবা (দান) দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উৎসে কর দিতে হবে না, কেবল দানকরই প্রযোজ্য হবে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত এই ব্যাখ্যায় বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১২৫ ধারা এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সাধারণ সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২৫ ধারায় নতুন উপধারা (২ক) সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের সময় নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর ই-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন।

হেবা ও ক্রয়-বিক্রয়ের কর কাঠামোর পার্থক্য
এনবিআর স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নতুন বিধানটি শুধুমাত্র হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, কোনো প্রকার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ, হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকারীকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে কেবল দানকর পরিশোধ করতে হবে, এখানে কোনো উৎসে করের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো দানকর প্রযোজ্য হবে না; এ ধরনের নিবন্ধনের সময় কেবল পূর্বনির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ করা হবে।

নিবন্ধন স্থবিরতার অবসান ও কর পরিশোধের নিয়ম
অর্থবিল-২০২৬ এর মাধ্যমে আয়কর আইনের ১২৫ ধারা সংশোধন এবং আয়কর বিধিমালা-২০২৬ জারির পর মাঠপর্যায়ে কর আদায় নিয়ে বড় ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। অনেকের মনে ধারণা জন্মেছিল যে, হেবা বা দান দলিলের ক্ষেত্রে দানকরের পাশাপাশি ন্যূনতম ২ শতাংশ বা প্রতি শতাংশে ৫০০ টাকা (সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও বেশি) হারে উৎসে করও দিতে হবে। এই উদ্বেগের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেবা ও দানসংক্রান্ত জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনায় এই জটিলতার অবসান ঘটেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর নিবন্ধনের আগেই পৃথক ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে সেই কর পরিশোধের প্রমাণপত্র নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় কোনো দলিল নিবন্ধন করা হবে না।

1 October 2026

হেবা দলিলে উৎসে কর নয়, কেবল ‘দানকর’ প্রযোজ্য: এনবিআর

Spread the love

খেলনা ঘোষণায় আমদানি, কমলাপুরে প্রায় কোটি টাকার ড্রোন জব্দ

হেবা দলিলে উৎসে কর নয়, কেবল ‘দানকর’ প্রযোজ্য: এনবিআর

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নতুন আয়কর আইন ও বিধিমালার ভাষাগত অস্পষ্টতার কারণে মাঠপর্যায়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সম্পত্তির হেবা (দান) দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উৎসে কর দিতে হবে না, কেবল দানকরই প্রযোজ্য হবে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত এই ব্যাখ্যায় বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১২৫ ধারা এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সাধারণ সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২৫ ধারায় নতুন উপধারা (২ক) সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের সময় নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর ই-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন।

হেবা ও ক্রয়-বিক্রয়ের কর কাঠামোর পার্থক্য
এনবিআর স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নতুন বিধানটি শুধুমাত্র হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, কোনো প্রকার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ, হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকারীকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে কেবল দানকর পরিশোধ করতে হবে, এখানে কোনো উৎসে করের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো দানকর প্রযোজ্য হবে না; এ ধরনের নিবন্ধনের সময় কেবল পূর্বনির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ করা হবে।

নিবন্ধন স্থবিরতার অবসান ও কর পরিশোধের নিয়ম
অর্থবিল-২০২৬ এর মাধ্যমে আয়কর আইনের ১২৫ ধারা সংশোধন এবং আয়কর বিধিমালা-২০২৬ জারির পর মাঠপর্যায়ে কর আদায় নিয়ে বড় ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। অনেকের মনে ধারণা জন্মেছিল যে, হেবা বা দান দলিলের ক্ষেত্রে দানকরের পাশাপাশি ন্যূনতম ২ শতাংশ বা প্রতি শতাংশে ৫০০ টাকা (সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও বেশি) হারে উৎসে করও দিতে হবে। এই উদ্বেগের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেবা ও দানসংক্রান্ত জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনায় এই জটিলতার অবসান ঘটেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর নিবন্ধনের আগেই পৃথক ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে সেই কর পরিশোধের প্রমাণপত্র নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় কোনো দলিল নিবন্ধন করা হবে না।

1 October 2026

হেবা দলিলে উৎসে কর নয়, কেবল ‘দানকর’ প্রযোজ্য: এনবিআর

Spread the love