ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে যত্রতত্র গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। অলিতে-গলিতে পৌরসভার অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত এসব ভবনের কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে পুরো শহরটি। সম্প্রতি দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্রাণহানির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যমুনা নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিরাজগঞ্জ এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল; তার ওপর ইমারত নির্মাণ বিধি অনুযায়ী ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না ছেড়ে এবং অনুমোদনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে শহরজুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে, যার একটি বড় অংশই নকশা অমান্য করে গড়ে তোলা হয়েছে।
অনুসন্ধানে একাধিক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। শহরের ‘আমেনা গার্ডেন’ নামের একটি ভবন ছয় তলার অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে নয় তলা। একইভাবে দরগা রোডের ‘এলিট টাওয়ার’ ছয় তলার অনুমোদন থাকলেও করা হয়েছে আট তলা। এছাড়া জুবিলি বাগান এলাকার ‘টিচার্স হাউস’ ও ‘সুইডিশ হাউস’সহ অসংখ্য বহুতল ভবন ইমারত বিধিমালা না মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, নকশা বহির্ভূত এসব অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল ও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
গণপূর্ত ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এখনই যদি এসব অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ রোখা না যায়, তবে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও সিরাজগঞ্জে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন জানান, নকশা বহির্ভূত ও অবৈধ ভবনের তালিকা ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে; খুব দ্রুতই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রশাসনিক আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে ভবন মালিকদেরও নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।













