সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালানো স্বৈরাচার সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যদি সাহস থাকে, তবে তাঁর দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আইনে বিচার পাওয়ার পর যদি তিনি খালাস পান, তা অত্যন্ত ভালো কথা; কিন্তু তাঁকে আইন-আদালতের মুখোমুখি হয়েই বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বক্তব্য দেওয়া উচিত। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দরের চেকপোস্ট গেট থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত ফোরলেন সড়ক উন্নীতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নিয়ে পলায়নকৃত স্বৈরাচার যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে জনগণ। স্বৈরাচারের পতনের পর দেশের মানুষ এখন ভালো আছে। কোনো ধরনের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে সাধারণ জনগণই তা প্রতিহত করবে; এর জন্য বিএনপির প্রয়োজন পড়বে না।
উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে ডা. জাহিদ হোসেন জানান, জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অবশেষে শুরু হচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে সময়মতো পৌঁছে যায়, তার দায়িত্ব দিনাজপুর জেলা প্রশাসক নিয়েছেন। আজ থেকেই এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাস্তাটিকে দৃশ্যমান একটি রূপ দেওয়া হবে।
এছাড়া হিলি স্থলবন্দরকে আরও আধুনিক ও কর্মক্ষম করতে সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, কাস্টমসের নতুন অফিসের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাজের সুবিধার জন্য আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টি এবং হিলি রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পণ্য ওঠানামা সহ সার্বিক বাণিজ্য সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। সকল সিদ্ধান্তই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, বিরামপুর-নবাবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





















