নওগাঁয় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী এবং ভ্যান চোর চক্রের বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন—মান্দা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার আরিফ হোসেন (৩০), মহাদেবপুর উপজেলার শেরপুর কুড়ালিপাড়া এলাকার মোশাররফ (৩৩) এবং বদলগাছী উপজেলার শিলং (২৩) ও আরাফাত (২৩)। অন্যদিকে, ভ্যান চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর নর্দগ্রাম এলাকার মো. সালাম (৪৮) ও তাঁর ছেলে মো. নয়ন।
পুলিশ সুপার জানান, মান্দা থানা এলাকায় মাদকের বড় মজুত থাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে রঘুনাথপুর গ্রামে আরিফ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি স্টিলের ট্রাংক থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফকে আটক করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় দুই কেজি গাঁজা।
পরবর্তী সময়ে মোশাররফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদলগাছী থেকে তাঁর দুই সহযোগী শিলং ও আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকেও আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে অভিযানে মোট ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কৌশলে ভ্যান চুরি, বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, গত ২৬ নভেম্বর বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মধু বিক্রির কথা বলে প্রতারক চক্র নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি এলাকা থেকে তাঁর ভ্যানটি ভাড়া নেয়। পরে কৌশলে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। ভ্যানটি ছিল তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে নাটোর থেকে চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয় এবং চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সালাম ও তাঁর ছেলে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার ৫১৭টি হারানো মোবাইল ফোন
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হারিয়ে যাওয়া ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোট ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


















