যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে সই করেন। একই সময়ে তেহরানে ইলেকট্রনিকভাবে এতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর মাধ্যমে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হলো।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, আলোচনাটি সহজ ছিল না, তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্নে ইরানের সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে খসড়াটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন বাস্তবায়ন যাচাইয়ের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সমঝোতা স্মারকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ, লেবানন-সংশ্লিষ্ট সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শুক্রবার থেকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, কাতারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ অংশ নেবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এখন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় এসেছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সর্বশেষ এই সমঝোতা স্মারক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।













