ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন দেশের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতু প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৬টায় নগরীর কেওয়াটখালী, রঘুরামপুর ও র্যালি মোড় এলাকাজুড়ে সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে এমপি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে। প্রকল্পটিকে একটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এলাকায় একটি পর্যটন স্পটের মতো সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। তবে জনচাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নির্মাণ পরিকল্পনায় কিছু সংশোধনী এনে ওভারপাস ও আন্ডারপাসের গ্যাপ কমানোর তাগিদ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে নির্মাণ কাজের ধীরগতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, কাজ অনেকটাই ধীরগতিতে চলছে, তবে সব ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করে এটি তড়িৎগতিতে শেষ করতে হবে। জমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্ন করে স্থাপনাগুলো অপসারণের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩০ জন সংসদ সদস্য এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ সময় ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় কিছুটা গ্যাপ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি রঘুনাথপুর ও শম্ভুগঞ্জ মোড়ে যানজট কমানোর জন্য শম্ভুগঞ্জ মোড়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের ওপর জোর দেন, যা জনচাহিদার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘব করবে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যেমন—মহানগর বিএনপির সদস্য সৈয়দ শরীফ, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় এবং ওলামা দল নেতা আমীর হামজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিডি) প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৩২০ মিটার হলেও ওভারপাস ও আন্ডারপাসসহ মূল সেতুটি হবে ১১ শত মিটার। এছাড়া নগরীর যানজট কমাতে আরও ২টি ওভারপাসের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এ ক্ষেত্রে কিছুটা আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বিগত সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মূল নির্মাণ কাজের এ পর্যন্ত মাত্র ২১ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণসহ মোট অগ্রগতির পরিমাণ ৪৬ ভাগ। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
নকশা ও বরাদ্দ অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ৩২০ মিটার মূল স্টিল আর্চ সেতু এবং ৭৮০ মিটার অ্যাপ্রোচ সেতুর পাশাপাশি ৫৫১ মিটার সড়ক ওভারপাস, ২৪০ মিটার রেলওয়ে ওভারপাস এবং ৬.২০ কিলোমিটার স্লো মুভিং ভেইকুলার ট্রাফিক লেনসহ চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে মোট ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যতীত ২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সর্বপ্রথম দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতু হিসেবে কেওয়াটখালী সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। এর ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও সুগম হবে।













