নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া হরিজন কলোনীর শত বছরের অধিক বয়সের পুরোনো একটি বটগাছ এখন অন্তত ১২টি পরিবারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছটির গোড়া ফেটে যাওয়ায় যে কোনো সময় এটি উপড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কলোনীর বাসিন্দারা। গত ২৮ জুলাইয়ের দমকা হাওয়ায় গাছটির একটি বড় ডাল ভেঙে কয়েকটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে অল্পের জন্য প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের মধ্যে ভেঙ্গে পড়া বড় একটি ডাল কয়েকদিন থেকে পড়ে থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
হরিজনদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছেন উত্তম,সুমতি,মনিরা,গিন্নী রানী,একনী রানীসহ অন্যান্য পরিবারগুলো।
হরিজন কলোনীর নেত্রী তুতিয়া বাশফোঁর জানান, গাছটির গোড়ায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি কিংবা সামান্য ঝড়ো বাতাসেই এটি ভেঙে বা উপড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত।
বসবাসকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুতিয়া বাশফোর, চাঁদনী, চম্পাসহ অন্তত ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি সরাসরি গাছটির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাত হলেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সামান্য বাতাস শুরু হলেই অনেকেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। গাছটি দ্রুত অপসারণে তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বটগাছটি অপসারণ করে নতুন গাছ রোপণেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি মানুষের জীবনও নিরাপদ থাকে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে ভুসম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দ্রুত সময়ে গাছটি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















