গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ঘনিষ্ঠ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ঠিকাদার মো. মাঈন উদ্দিন (৪৫) বহাল তবিয়তেই তাঁর অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় তিনি কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো তোয়াক্কা না করেই তিনি বর্তমানে ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন, বেশ কয়েকটি হাইস্কুল ভবন ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তিনি মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সরেজমিনে ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। ভবনের আস্তরণ, ইটের গাঁথুনি ও ফ্লোরের কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের বালু ও ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি নির্ধারিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লক ভাঙা পাথর এবং ইটের সুড়কি ব্যবহার করার প্রমাণ মিলেছে। কাজের তদারকিতে থাকা কর্মচারীরা স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে এসব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে কাজের জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও পরে রহস্যজনকভাবে সবকিছু নিয়মমাফিক হচ্ছে বলে দাবি করেন। নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও এই বিতর্কিত যুবলীগ নেতার অপকর্ম অব্যাহত থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





















