২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান যে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত অনলাইন ফি পরিশোধ করে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই সময়ভিত্তিক (স্লট) অনলাইন টিকিট ও প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আগাম বুকিং দিতে হবে এবং অনুমোদিত নির্দিষ্ট সময়েই প্রবেশ করতে হবে; কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নিতে হবে। জাদুঘরটিতে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
বিগত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য ও প্রতীকী কবর নিয়ে জাদুঘরটি ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছে। এর বিভিন্ন গ্যালারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং দীর্ঘ সময়ের গুম-নির্যাতনের তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল স্থান পেয়েছে। দর্শনার্থীদের বিশেষ দৃষ্টি কাড়ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা স্পর্শকূল চিঠিটি। এছাড়া উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদদের প্রতীকী কবর এবং ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আন্দোলনের নানান স্মৃতিচিহ্ন—যার মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে।





















