গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেলেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। তবে এবার তাদের সামনে আসল পরীক্ষা। ‘হেক্সা’ মিশন বাঁচিয়ে রাখতে রাউন্ড অব ৩২-এর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তি জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের সামনে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্রাজিলের শুরুর একাদশ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে চলছে তুমুল বিশ্লেষণ। ধারণা করা হচ্ছে, আগের ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ধরে রেখেই কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ।
জাপানের বিপক্ষে রক্ষণভাগে চেনা প্রাচীরই ধরে রাখছে ব্রাজিল। গোলপোস্টের নিচে বরাবরের মতোই বিশ্বস্ত হাত হিসেবে থাকছেন লিভারপুলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার, যিনি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। রক্ষণভাগের সেন্টারে জুটি বাঁধবেন অধিনায়ক মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। আর ফুলব্যাকে দুই প্রান্তে দানিলো ও ডগলাস সান্তোসের ওপরই ভরসা রাখছেন কোচ আনচেলত্তি।
জাপানের গতিময় ফুটবল কাউন্টার করতে ব্রাজিলের মধ্যমাঠের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে ক্যাসেমিরো এবং ব্রুনো গুইমারেসের জুটির ওপরই থাকছে মূল ভরসা। তবে আনচেলত্তি যদি ৪-৪-২ ছকে দল সাজান, তবে লুকাস পাকেতাকেও দেখা যেতে পারে শুরুর একাদশে। এবারের ম্যাচের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান। রাফিনহার ইনজুরির সুযোগে দলে এসে আগের ম্যাচেই নিজের জাত চেনানো এই তরুণকে জাপানের বিপক্ষেও উইংয়ে রেখে আক্রমণ সাজানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল কাণ্ডারি হিসেবে থাকছেন উড়ন্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৪টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ত্রাস হয়ে উঠেছেন। আক্রমণভাগে তার সঙ্গী হিসেবে দেখা যাবে ধারাবাহিক পারফর্ম করা ম্যাথিয়াস কুনহাকে (৩ গোল)। এদিকে ফুটবল ভক্তদের বাড়তি নজর থাকবে নেইমার জুনিয়রের ওপর। ইনজুরি কাটিয়ে আগের ম্যাচে শেষ ২০ মিনিট মাঠে থাকা নেইমারকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না আনচেলত্তি। পুরো ৯০ মিনিট খেলানোর ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দ্বিতীয়ার্থেই তাকে মাঠে নামানোর মোক্ষম পরিকল্পনা রয়েছে কোচের। এছাড়া বদলি হিসেবে প্রস্তুত রাখা হতে পারে এনরিকেকেও।
হেড-টু-হেড রেকর্ডে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও দুই দলের শেষ দেখায় শেষ হাসি হেসেছিল জাপানই। নকআউটের মঞ্চে যেকোনো ছোট ভুলও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে, তাই সেই অতীত পরিসংখ্যানের সতর্কতা মাথায় রেখে বেশ সতর্ক হয়েই মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল।




















