০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; অর্থ ব্যবহার নিয়ে তেহরানের ভিন্ন দাবি

  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • 58

চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; অর্থ ব্যবহার নিয়ে তেহরানের ভিন্ন দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তি মেনে না চলে বা ঠিকমতো আচরণ না করে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজের সুবিধাজনক যেকোনো পদক্ষেপ তিনি নেবেন। সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।

এই চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, অবমুক্ত করা এই অর্থ ইরান শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যদ্রব্য কেনার কাজেই ব্যবহার করতে পারবে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ৯১ মিলিয়ন মানুষের খাদ্যসংকট দূর করতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে এবং পুরো টাকাটাই ঘুরেফিরে মার্কিন কৃষকদের পকেটে আসবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ দিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্য কেনার কথা ছিল তেহরানের।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেহরান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি উপকরণ বা খাদ্য কিনতে মোটেও বাধ্য নয়। হেম্মাতি আরও স্পষ্ট করেন যে, অবমুক্ত হওয়া অবশিষ্ট তহবিল শুধু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এমন যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান ও লেবাননে মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি হয়। এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দামও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত ও অর্থের ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ মহলের এই বিপরীতমুখী অবস্থান চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

1 October 2026

চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; অর্থ ব্যবহার নিয়ে তেহরানের ভিন্ন দাবি

Spread the love

খেলনা ঘোষণায় আমদানি, কমলাপুরে প্রায় কোটি টাকার ড্রোন জব্দ

চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; অর্থ ব্যবহার নিয়ে তেহরানের ভিন্ন দাবি

আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তি মেনে না চলে বা ঠিকমতো আচরণ না করে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজের সুবিধাজনক যেকোনো পদক্ষেপ তিনি নেবেন। সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।

এই চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, অবমুক্ত করা এই অর্থ ইরান শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যদ্রব্য কেনার কাজেই ব্যবহার করতে পারবে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ৯১ মিলিয়ন মানুষের খাদ্যসংকট দূর করতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে এবং পুরো টাকাটাই ঘুরেফিরে মার্কিন কৃষকদের পকেটে আসবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ দিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্য কেনার কথা ছিল তেহরানের।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেহরান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি উপকরণ বা খাদ্য কিনতে মোটেও বাধ্য নয়। হেম্মাতি আরও স্পষ্ট করেন যে, অবমুক্ত হওয়া অবশিষ্ট তহবিল শুধু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এমন যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান ও লেবাননে মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি হয়। এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দামও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত ও অর্থের ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ মহলের এই বিপরীতমুখী অবস্থান চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

1 October 2026

চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; অর্থ ব্যবহার নিয়ে তেহরানের ভিন্ন দাবি

Spread the love