দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বর্তমানের ৬.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদিকে সদ্য অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিচালন ব্যয় মেটাতে যখন যেকোনো উপায়ে করের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রাজস্ব বাড়াতে সরকার তৎপর, ঠিক তখনই আবার বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিত্তবানদের অবাধে কর ছাড় ও মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—যা রাজস্ব অর্জনে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
নতুন বাজেটে নানা খাতে এই কর ছাড়ের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন—মোবাইল সিমের ওপর পূর্বের ৩০০ টাকা কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করায় সরকার প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও এর সুফল গ্রাহকরা পাবেন না, পুরো অর্থই অপারেটরদের পকেটে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে বিলাসী প্রসাধনী আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর কথা থাকলেও লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন ও ফেসওয়াশের ওপর উল্টো শুল্ক-কর কমানো হয়েছে। এছাড়া ১১টি নতুন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যাদের অবাণিজ্যিক ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি স্বর্ণের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট কমানোকে বিত্তশালীদের গহনাবিলাস ও কালো টাকা সাদা করার কৌশলকে উৎসাহিত করার সামিল মনে করা হচ্ছে। পাশাপশি, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) আওতায় বাংলাদেশকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের কর ছাড় দিয়ে যেতে হবে।
উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মুখে দাঁড়িয়ে চারদিকে কর ছাড়ের এই বিপুল আয়োজন স্পষ্টতই অসংগতিপূর্ণ ও স্ববিরোধী আচরণ। সরকারের উচিত ছিল বিত্তবানদের ওপর প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করা, কিন্তু বাজেটের অধিকাংশ সুবিধা সুবিধাভোগী ও বিত্তশালীদের পক্ষেই গেছে। ফলে ধনীদের দেওয়া এই কর ছাড়ের ঘাটতি মেটাতে শেষ পর্যন্ত পরোক্ষ করের মাধ্যমে স্বল্পবিত্তের সাধারণ মানুষের ওপরই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম হতাশাজনক।






















