০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

  • Md. Rasel Khan
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • 93

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা ও উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের কারণে উপকূলের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ জরুরি।

গবেষণা সংস্থা ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান কমছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের সংকট যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, উপকূলের সংকট এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট নিবন্ধন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, উপকূল উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকা এখনো উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি বাজেট পাসের আগেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা। পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করে দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, অমিত রঞ্জন দেন, সাকিলা পারভীন, শাকিল আহমেদ এবং সাদিয়া সুলতানা শাপলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

1 October 2026

উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

Spread the love

খেলনা ঘোষণায় আমদানি, কমলাপুরে প্রায় কোটি টাকার ড্রোন জব্দ

উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা ও উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের কারণে উপকূলের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ জরুরি।

গবেষণা সংস্থা ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান কমছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের সংকট যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, উপকূলের সংকট এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট নিবন্ধন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, উপকূল উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকা এখনো উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি বাজেট পাসের আগেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা। পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করে দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, অমিত রঞ্জন দেন, সাকিলা পারভীন, শাকিল আহমেদ এবং সাদিয়া সুলতানা শাপলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

1 October 2026

উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

Spread the love