ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি কঠোর অভিবাসন নীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ভোটটি দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ, যা মূলত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। এই নতুন আইনের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা ‘রিটার্ন হাব’ (বহিষ্কার কেন্দ্র) স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে ইউরোপে থাকার অধিকার না পাওয়া অভিবাসীদের পাঠানো হতে পারে।
ইইউর অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার এই আইনটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্পষ্ট করেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে আর কাকে চলে যেতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন থেকে মানব পাচারকারীরা নয়, বরং কর্তৃপক্ষ নিজেই নেবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা এই ‘বহিষ্কার কেন্দ্র’ স্থাপনের ধারণাটি ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়েছে। এমনকি এই কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগে দেশগুলো সম্মত হয়েছে। ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ একাধিক দেশ এই প্রকল্প নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ফ্রান্স ও স্পেন এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে চালু করা যায়।
মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত কঠোর হওয়া এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানের কারণেই সরকারগুলো এমন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও ২০২৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীদের আগমন কিছুটা কমেছে, তবুও ব্রাসেলসের মূল মনোযোগ এখন প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে, যা অত্যন্ত কম। নতুন এই সংস্কারের মাধ্যমে এই হার বাড়ানো এবং সামগ্রিক অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসাই এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল লক্ষ্য।













