গাজীপুরের টঙ্গীতে এক দুঃসাহসিক অভিযানে নিজের জীবন বাজি রেখে কুখ্যাত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশের এক বীর উপ-পরিদর্শক (এসআই)। ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত ও রক্তঝরা অবস্থায়ও পিছু না হটে বীরত্বের সাথে ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরে শেষ পর্যন্ত তাকে ও তার সহযোগীকে আইনের আওতায় এনেছেন তিনি। গত বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার খরতৈল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম হানিফ মাহমুদ, যিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত কুখ্যাত ছিনতাইকারীর নাম শাওন ওরফে ‘কাইল্যা শাওন’ এবং তার প্রধান সহযোগী সাগর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে এসআই হানিফ মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল খরতৈল এলাকায় বিশেষ ছিনতাইবিরোধী অভিযানে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাইল্যা শাওন ও তার সহযোগী সাগরকে হাতেনাতে আটক করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেদের বাঁচাতে ছিনতাইকারীরা অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে কাইল্যা শাওন তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এসআই হানিফের পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন এসআই হানিফ। যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায়ও তিনি কাইল্যা শাওনকে শক্ত মুঠোয় ধরে রাখেন। পরে সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত এগিয়ে এসে কাইল্যা শাওন ও সাগরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় এসআই হানিফ মাহমুদকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, আহত পুলিশ কর্মকর্তার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












