১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের দমানো অসম্ভব! এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি আরব?

  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • 19

হুতিদের দমানো অসম্ভব! এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি আরব?

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ ও কৌশলগত সংকটের মুখে পড়েছে রিয়াদ। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে জোর আলোচনা চললেও, স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কিংবা মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া—প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। তবে এর সুফল না মিলিয়ে বিদ্রোহীরা উল্টো হামলা আরও জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অনুসৃত কৌশল অনুসরণ করে হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সৌদি আরবকে সামরিকভাবে চাপে ফেলা নয়, বরং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলা। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে রিয়াদের এক দশকব্যাপী যুদ্ধ ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করলেও, সাম্প্রতিক এই হামলাকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখছেন।

গত ১১ বছর ধরে সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তাদের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বরং তারা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। সৌদি রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক আলী শিহাবি সিএনএনকে জানান, এই হুমকির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর কার্যকারিতার ওপর এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে। ইয়েমেনে বড় আকারে সৌদি সেনা মোতায়েন করা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়া স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের সমর্থনে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কম খরচের একমুখী ড্রোন ব্যবহার করছে। এমনকি অস্ত্র উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের লক্ষণও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে অবস্থিত একটি গোষ্ঠী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে তাদের ক্লড এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে এবং সিরিয়ারও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও সরাসরি সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করে এতে মার্কিন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভর করে হুতিদের কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, এখন সেটাই রিয়াদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

12 October 2026

হুতিদের দমানো অসম্ভব! এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি আরব?

Spread the love
জনপ্রিয়

কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল কবীর

হুতিদের দমানো অসম্ভব! এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি আরব?

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ ও কৌশলগত সংকটের মুখে পড়েছে রিয়াদ। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে জোর আলোচনা চললেও, স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কিংবা মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া—প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। তবে এর সুফল না মিলিয়ে বিদ্রোহীরা উল্টো হামলা আরও জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অনুসৃত কৌশল অনুসরণ করে হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সৌদি আরবকে সামরিকভাবে চাপে ফেলা নয়, বরং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলা। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে রিয়াদের এক দশকব্যাপী যুদ্ধ ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করলেও, সাম্প্রতিক এই হামলাকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখছেন।

গত ১১ বছর ধরে সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তাদের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বরং তারা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। সৌদি রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক আলী শিহাবি সিএনএনকে জানান, এই হুমকির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর কার্যকারিতার ওপর এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে। ইয়েমেনে বড় আকারে সৌদি সেনা মোতায়েন করা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়া স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের সমর্থনে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কম খরচের একমুখী ড্রোন ব্যবহার করছে। এমনকি অস্ত্র উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের লক্ষণও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে অবস্থিত একটি গোষ্ঠী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে তাদের ক্লড এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে এবং সিরিয়ারও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও সরাসরি সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করে এতে মার্কিন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভর করে হুতিদের কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, এখন সেটাই রিয়াদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

12 October 2026

হুতিদের দমানো অসম্ভব! এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি আরব?

Spread the love