০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত জোরদার উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 27

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত জোরদার উদ্যোগ

অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন

সাইবার জালিয়াতি, অনলাইন হয়রানি ও হ্যাকিং দমনে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়াতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি

সাইবার অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ফরেনসিক ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, সাইবার ট্রেনিং সেন্টার ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে চলমান পাঠ্যক্রমে নতুন মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে ১০ দিনের ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের আয়োজন করা হয়, যেখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩৩২ জন কর্মকর্তা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের দিকনির্দেশনা দেবেন।

আইনি ব্যবস্থা ও অপরাধের চিত্র

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে সিআইডি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ১৯১টি মামলা দায়ের করে ১০১ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন বিভাগে—যেমন রমনা, তেজগাঁও, গুলশান, মতিঝিল, মিরপুর, উত্তরা, লালবাগ ও ওয়ারী—সাইবার অপরাধের অভিযোগে অন্তত কয়েক শত মামলা করা হয়েছে এবং বেশ কিছু অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে হ্যাকিং, ভুয়া লিংক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং নারী ও শিশুদের টার্গেট করার পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক ভয়েস ও ভিডিও ক্লোনিং (ডিপফেক) ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো নতুন ধরণের অপরাধ দেখা যাচ্ছে।

সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

অনলাইন প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে পুলিশ বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

26 September 2026

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত জোরদার উদ্যোগ

জনপ্রিয়

এটিইউর নতুন পরিচয় ‘এসআরইউ’, সিটিটিসিও আসছে নতুন নামে

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত জোরদার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন

সাইবার জালিয়াতি, অনলাইন হয়রানি ও হ্যাকিং দমনে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়াতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি

সাইবার অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ফরেনসিক ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, সাইবার ট্রেনিং সেন্টার ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে চলমান পাঠ্যক্রমে নতুন মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে ১০ দিনের ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের আয়োজন করা হয়, যেখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩৩২ জন কর্মকর্তা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের দিকনির্দেশনা দেবেন।

আইনি ব্যবস্থা ও অপরাধের চিত্র

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে সিআইডি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ১৯১টি মামলা দায়ের করে ১০১ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন বিভাগে—যেমন রমনা, তেজগাঁও, গুলশান, মতিঝিল, মিরপুর, উত্তরা, লালবাগ ও ওয়ারী—সাইবার অপরাধের অভিযোগে অন্তত কয়েক শত মামলা করা হয়েছে এবং বেশ কিছু অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে হ্যাকিং, ভুয়া লিংক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং নারী ও শিশুদের টার্গেট করার পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক ভয়েস ও ভিডিও ক্লোনিং (ডিপফেক) ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো নতুন ধরণের অপরাধ দেখা যাচ্ছে।

সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

অনলাইন প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে পুলিশ বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

26 September 2026

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত জোরদার উদ্যোগ