জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখানে মূলত আইনি ও নীতিগত বিষয়াদি পরিচালনার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। পেশাগত দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন ও নীতিবিষয়ক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যারিস্টার, যিনি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বার-অ্যাট-ল অর্জন করেন এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রাথমিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এই পদে জাইমা রহমানের প্রধান কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সার্বিক আইনি কার্যক্রম যেন সঠিক কাঠামোর অধীন থাকে তা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত বিভিন্ন চুক্তি, নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবনার আইনি দিক পর্যালোচনা, জাতিসংঘের সনদ ও বিধিমালা অনুযায়ী সভা পরিচালনা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি বিশ্লেষণ ও নথি প্রস্তুত করা অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পাদিত চুক্তি চূড়ান্তকরণ এবং মানবাধিকার, জলবায়ু কূটনীতি ও গ্লোবাল গভর্নেন্সের ক্ষেত্রে আইনি গবেষণার দায়িত্বও তাকে পালন করতে হবে।
আইনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেলেও জাইমা রহমানের সুনির্দিষ্ট বেতন বা স্কেল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী পেশাদার কর্মকর্তাদের বেতন পি-১ থেকে পি-৫—এই পাঁচটি গ্রেডে ভাগ করা থাকে, যেখানে মূল বেতনের সাথে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী ‘পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট’ যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়। তিনি পি-১ গ্রেডের অধীনে আছেন কি না বা তার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টের হার কত, তা জাতিসংঘের তথ্য বা কার্যালয়ের তালিকায় উল্লেখ না থাকায় তার সঠিক বার্ষিক পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের জুনে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই অধিবেশন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তার কার্যালয়ে জাইমা রহমান ছাড়াও ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট ও বিভিন্ন বিষয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ বাংলাদেশি কর্মকর্তা কাজ করছেন।























