আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জোটে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ও শক্তি জানান দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন কৌশলে এগোচ্ছে।
নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে এনসিপি। পূর্বপরিকল্পনা বদলে দলটি ঢাকায় তাদের শীর্ষ দুই মুখকে প্রার্থী করার তোড়জোড় চালাচ্ছে। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রাক-মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের এই প্রার্থিতার আলোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন দলের নেতা আব্দুল কাদের।
নির্বাচনী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ‘ফরম-১৩’ পূরণ করে দুজনেই নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তরা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ ধানমন্ডি ছেড়ে ঢাকা উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের (আফতাবনগর) ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
এনসিপির এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূলত ১১ দলীয় জোটের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কাজ করছে। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম এবং উত্তরে দলটির মহানগর আমির সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে। দক্ষিণ সিটিতে শরিক জামায়াতের পক্ষ থেকে ছাড় পাওয়ার মতো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এনসিপি তাদের প্রার্থী তালিকায় এমন বড় ধরনের রদবদল আনল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটবদ্ধ রাজনীতির মধ্যেও এনসিপির এই একক ও কৌশলগত পদক্ষেপ ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। তরুণ প্রজন্মের সমর্থন এবং স্থানীয় ভোটারদের মেরুকরণ শেষ পর্যন্ত সিটি নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে।





















