প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে তাল মেলাতে এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি আনতে অতিরিক্ত সচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি তথা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) প্রায় তিন শতাধিক যুগ্মসচিবের নথি ও অতীত পোস্টিং রেকর্ড চুলচেরা বিশ্লেষণ করে শর্ট লিস্ট তৈরিতে কাজ করছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে এরই মধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জিও জারি করা হবে।
যোগ্যতা যাচাই ও বিবেচনাধীন ব্যাচ:
‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ অনুযায়ী যুগ্মসচিব হিসেবে কমপক্ষে দুই বছরসহ মোট চাকরির মেয়াদ ২২ বছর পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে এ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এবারের পদোন্নতিতে প্রধানত নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ২১তম বিসিএসের প্রায় ১৭০ জন এবং ২০তম ব্যাচসহ অন্যান্য লেফট আউট মিলিয়ে মোট তিন শতাধিক কর্মকর্তার ডসিয়ার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ ১১৮ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ ও তদবির:
পদোন্নতির এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তাদের ভিড় ও দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। অনেকে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চাচ্ছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন। এমনকি কিছু বিতর্কিত ও বিভাগীয় মামলা থাকা কর্মকর্তার তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার তাগিদ:
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া সতর্ক করে বলেছেন যে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত আক্রোশ যেন মেধা ও দক্ষতাকে ছাপিয়ে না যায়। অতীতে ডিসি বা পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা না করে কর্মকর্তার মূল পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত না হন।





















