চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আদালতের ভুয়া রায় ও ডিক্রির কপি জমা দিয়ে জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করার অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বিভিন্ন মামলার শুনানিকালে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আখতার উদ্দিনের ছেলে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি বিবিধ মামলার শুনানিতে বাদীপক্ষ আদালতের রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৩ ধারায় জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা রায় ও ডিক্রির ফটোকপি পর্যালোচনা করতে গিয়ে সেগুলো সন্দেহজনক মনে হয়। বিশেষ করে বিচারকের স্বাক্ষর নকল বলে সন্দেহ হওয়ায় আবেদনকারী রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি দাখিল করা রায় ও ডিক্রির কপি সঠিক নয় বলে স্বীকার করেন। পরে মামলার বিবাদীপক্ষ প্রকৃত আদালতের রায়ের কপি দাখিল করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। প্রকৃত রায়ে দেখা যায়, আদালত বাদীর আবেদন ডিসচার্জ করেছিলেন। অথচ বাদীপক্ষ নিজেদের তৈরি একতরফা রায়ের কপি দাখিল করে জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন।
এ ঘটনায় শুনানিকালে দোষ স্বীকার করায় শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারার বিধান অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা বলেন, ভূমি অফিসে জাল বা নকল কাগজপত্র দাখিল করে নামজারি কিংবা বিবিধ মামলার মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জাল কাগজপত্র দাখিলের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
4 November 2026






















