সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি ও কাঙ্ক্ষিত পদায়ন পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০ ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা। সাবেক সরকারের শাসনামলে পদোন্নতি পাওয়া ও সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) জমা দেওয়া হচ্ছে।
ডিও লেটারের মাধ্যমে বিধিমালা লঙ্ঘন
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ জানিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে লেখা ডিও লেটার সংগ্রহ করেছেন। অথচ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ ও ৩০ ধারা এবং ১৯৫৮ সালের স্মারক অনুযায়ী, চাকরিসংক্রান্ত যেকোনো সুবিধা বা পদোন্নতির জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের মাধ্যমে তদবির করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পদোন্নতির দৌড়ে বিতর্কিত ও সাবেক ডিসিরা
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেতে তদবিরে শীর্ষে রয়েছেন শেখ হাসিনার শাসন আমলে সুবিধাভোগী, অর্থ সচিবের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে অনেকে বিটিভি, চসিক, রাজউক, এনবিআরসহ বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন।
এছাড়া ২০ ব্যাচের প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা শেখ হাসিনার আমলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে অন্তত তিনজন ২০১৮ সালের বহুল বিতর্কিত ‘রাতের ভোটে’ রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারাও নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে তদবির অব্যাহত রেখেছেন।





















